আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে একটু ধারনা নেয়া যাক,,ব্যক্তিবিশেষে অবশ্য একেকজনের মানসিক চাপ একেক রকমের।

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে আপনার মনে হবে আপনার পৃথিবী আস্তে আস্তে ছোট হয়ে আসছে। বাইরের সব জিনিসপত্র তেই ভাইরাস। বাসায় বাইরে অপরিচিত মানুষকে দেখলেই মনে হবে এই লোক ভাইরাসে আক্রান্ত।আশেপাশের কেউ হাঁচি দিলে তো অবশ্যই নিজে হাঁচি কাশি দিলে ও মনে হবে শেষ। অনেকের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে। অল্পতে রেগে যাবে।’ঘুম হবেনা। হলেও টাইমের কোন ঠিক থাকবে না।

অনেকে মনে করছেন শহর থেকে গ্রামে চলে যাই। আবার গ্রামে যারা আছেন তাদের মনে হবে শহরে চলে যাই এভাবে আপনি করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে পারবেন না। করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করার প্রথম শর্ত হল মুভমেন্ট কম করা, যথাসম্ভব বাসায় বন্দি থাকা। আপনি বাসায় আছেন কেউ আপনার বাসায় আসছেনা , আপনি ও কারো বাসায় যাচ্ছেন না এমন অবস্থা। জরুরী প্রয়োজনে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা, বাইরে থেকে এসে ভালভাবে সাবান দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে ফেলা(স্নান করা সবচেয়ে ভাল)

সবাইকে যখন বাসায় থাকতে বলা হচ্ছে তখন একদল সাহসী বাইরে আড্ডা মারছেন।এই রকম পাবলিক শুধু বাংলাদেশে নয় সব দেশই আছে। তারা দেশ এবং পরিবারের জন্য ক্ষতিকর।তাই কারফিউ এর মত লকডাউন সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা জরুরী।(অলরেডি করা হয়েছে)

ডাক্তারদের মনের অবস্থা এখন কেমন সেটা কেউ উপলব্ধিও করতে পারবেনা। বিশ্বাস করুন তারা সবাই নিজের চেয়েও পরিবার নিয়ে ‌বেশি চিন্তিত ,
তাদের অবশ্যই বাইরে যেতে হচ্ছে। হাসপাতালে কাজ করতে হচ্ছে,তারা চাইলে ও বাসায় বন্দি থাকতে পারছেন না । আর হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে। তাই যারা জরুরী প্রয়োজনে বাইরে কাজ করছেন তাদের সুরক্ষায় আপনি বাসায় থাকুন চিকিৎসকদের এই কথাটা একটু কঠিন হলেও কথাটির একটি ডিপ মিনিং আছে আপনি যত মুভমেন্ট কম করবেন ক্রস ইনফেকশন তত কম হবে রোগীর সংখ্যা কম হবে। Prevention is better than cure . এই কথাটা আমরা ছোট বেলা থেকেই জানি আর এই prevention এর জন্যেই দরকার কারফিউ এর মত পরিস্থিতি।
এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য একেবারেই নতুন হলেও কিন্তু আমাদের সামনে উদাহরণ আছে।দেখে শেখার অপশন আছে।
চায়নাতে অন্যান্য শহরের ডাক্তাররা যখন উহানে যাচ্ছিল তখনও তারা জানতনা এই রোগের চিকিৎসা কি‌, মৃত্যুর হার কত, তবুও তারা লড়াই করে জিতেছে। সরকার তাদেরকে পর্যাপ্ত সহায়তা দিয়েছে।
হুবেই প্রদেশে কমপক্ষে ৪২ হাজার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হুবেই প্রদেশে পাঠানো হয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য। তবে তারা তাদেরকে একসাথে পাঠায়নি,টিম করে পাঠিয়েছিল, যুদ্ধে যেমন এক একটা দল‌ থাকে তেমন। একটার পর একটা এভাবে,একদল ক্লান্ত হলে আরেকদল। জুনিয়র চিকিৎসকদের তারা ব্যবহার করেনি কিন্তু প্রস্তুত রেখেছিল।
এই পরিস্থিতি নতুন ধরনের একটা চ্যালেঞ্জ। যেমন ক্ষতি হওয়ার আগেই ক্ষতিপূরন দেয়ার মত। আক্রান্ত না হওয়ার চ্যালেঞ্জ, ছোট বেলার বরফ- পানি খেলার মত।বরফ না হওয়ার চ্যালেঞ্জ। বাসায় থাকার চ্যালেঞ্জ।এই চ্যালেঞ্জ সবাইকে মোকাবিলা করতে হবে। জীবনের কোনো কিছুই কিন্তু স্থায়ী না। যত দুঃসময় আসুক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে