আজকের ইতালির মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের অসংখ্য কীর্তি। কলোসিয়াম বা পম্পেই পার্ক দেখতে ভিড় জমান বহু দেশের মানুষ। আর লকডাউনের বিধিনিষেধ পেরিয়ে জুন মাসের শুরুতেই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে যাচ্ছে এইসব প্রত্নতাত্ত্বিক সৌধের দরজা। যদিও চত্বরে প্রবেশের আগে স্যানিটাইজেশন এবং টেম্পারেচার-চেক করা হবে।
তবে এর থেকেও বড় চমক অপেক্ষা করছে ইতালির ইতিহাসপ্রিয় মানুষের জন্য। ঐতিহ্যশালী প্রত্নতাত্বিক ক্ষেত্রগুলি তো আছেই, সেইসঙ্গে দর্শকরা দেখতে পাবেন বেশ কিছু সদ্য আবিষ্কৃত নিদর্শনও। লকডাউনের মধ্যেই এইসব নিদর্শন খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।
ইতালিতে খুঁজে পাওয়া সাম্প্রতিক প্ৰত্নসৌধের মধ্যে প্রথম যেটির কথা বলতে হয়, সেটি একটি ১৭০০ বছরের পুরনো মার্বেল পাথরের মোজাইক করা মেঝে। এটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছে ইতালির উত্তরে ভেরোনা শহরে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, মূল সৌধটি কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিকরা খুঁজে পেয়েছিলেন প্রায় ১০০ বছর আগে। ১৯২২ সালে এই ধ্বংসাবশেষটির সন্ধান জানা যায়। কিন্তু তারপর থেকে সচরাচর আর কারোর দৃষ্টি পড়েনি। অবশেষে গতবছর আবার একদল প্রত্নতাত্বিক খননকার্য শুরু করেন। তাঁদের উদ্যোগে ফেব্রুয়ারি মাসে খুঁজে পাওয়া যায় এই মার্বেলের মোজাইক করা মেঝেটি। কিন্তু লকডাউনের ফলে তা আর দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া যায়নি। গবেষণাও চলেনি সেভাবে। তবে এখন খুব শিগগিরই জমির মালিক এবং পৌরকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করবে ভেরোনা শহরের পুরাতত্ত্ব বিভাগ।
এছাড়াও লকডাউনের শুরুতেই
একটি দুর্ঘটনার সময় মাটির নিচের সিঙ্কহোলের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো পেভিং স্টোন। এপ্রিল মাসে আরও একটি সিঙ্কহোলের নিচে খুঁজে পাওয়া যায় সাতটি ট্রাভার্টাইন স্ল্যাব। তবে লকডাউনের কারণে এগুলোর কোনোটাই এতদিন চাক্ষুষ করতে পারেননি ইতালির মানুষ। অবশেষে যেন আবার সেই প্রাচীন ইতিহাসের ঐতিহ্যে নিমগ্ন হতে চলেছে ইতালি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে