এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫৫ আলোকবর্ষ দুরে অ্যাকুয়ারিয়াস নক্ষত্রমন্ডলে অবস্হিত। খুব সম্ভবত ১৮২৪ সালের দিকে কার্ল লাডউইগ হার্ডিং এই নীহারিকাটি আবিষ্কার করেন। এর দুরত্ব পরিমাপ করা হয়েছিলো ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির “গাইয়া স্পেস অবজারভেটরি”র মাধ্যমে। হেলিক্স নীহারিকার আকৃতি অনেক বৃহৎ দানবীয় চোখের আকৃতির মতো বলে এজন্যে আগে একে “ঈশ্বরের_চোখ” বা “Eye of God” ও বলা হতো। এটি প্রকৃতিগত দিক থেকে প্ল্যানেটারি নেবুলা ও পৃথিবীর নিকটতম একমাত্র প্ল্যানেটারি নেবুলা।

(প্ল্যানেটারি নেবুলা হলো এমন এক ধরনের নেবুলা যেগুলো আলো বিকিরন করে, আলো বিকিরন করে বলে এদের খুব উজ্জ্বল দেখায়। এরা প্রসারমান, উজ্জ্বল আয়নিত গ্যাসের শেল বা গোলকীয় স্তর দ্বারা গঠিত, যা মুলত যে রেড জায়েন্ট নক্ষত্রের বিস্ফোরনে নীহারিকাটি সৃষ্টি হয়েছে, সে নক্ষত্রেরই অংশ)

নীহারিকাটির ব্যাস ৫.৭ আলোকবর্ষ জুড়ে অবস্হিত। ধারনা করা হয়, সুর্যের মতোই কোন নক্ষত্রের বিস্ফোরন থেকেই এর জন্ম। বিস্ফোরনের কারনে নক্ষত্রটির বাইরের পৃষ্ঠ বা অংশটি বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাশুণ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আর নেবুলাটির কেন্দ্রে পড়ে থাকে কোর অংশটি, যেটিকে বর্তমানে নেবুলার কেন্দ্রে দেখা যায়। তবে এটি আর স্বাভাবিক নক্ষত্রের অবস্হায় নেই। কারন, নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া পুনরায় সৃষ্টি হওয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত তাপ, চাপ কোনটিই নেই। তাই এটি একটি হোয়াইট ডোয়ার্ফে পরিণত হয়েছে।

নেবুলাটির কেন্দ্রের নক্ষত্রটির বর্তমান আকৃতি পৃথিবীর মতোই, কিন্তু ভর পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি। এর তাপমাত্রা প্রায় ১,২০,০০০ কেলভিন ও সুর্যের তুলনায় ১০০ গুন বেশি উজ্জ্বল। ডোয়ার্ফটির চারদিক ঘিরে রয়েছে ঘন গ্যাসীয় মেঘের স্তর, যেগুলো একসময় তারই অংশ ছিলো। নেবুলাটির বাইরের দিকের অংশের তাপমাত্রা ৯০০ কেলভিন ও অপেক্ষাকৃত ভেতরের দিকের অংশের তাপমাত্রা ১৮০০ কেলভিনের মতো। হিসাবমতে, নীহারিকাটির বয়স প্রায় ১০,৬১০ বছর, ও এটি সেকেন্ডে ৩১ কি.মি বেগে প্রসারিত হচ্ছে। মেঘমুক্ত আকাশে, বাইনোকুলারের মাধ্যমে একে সবুজাভ কুয়াশার মতো দেখায়, যা মোটামুটি পুর্ন চাঁদের আকারের তুলনায় অর্ধেক আকারের।

 

-মুমতাহিনা মিমমা
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে