করোনার প্রকোপ দিন দিন আরো ভয়াবহ হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রায় ১১৫৭৯৬ জন করোনাতে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৫০২। কিন্তু প্রতি ২৪ ঘণ্টায় যে পরিমাণ মৃত্যু হয় তাতে দেখা যায় পুরুষের মৃত্যু সংখ্যা মহিলাদের তুলনাই অনেক বেশি। যেমন ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৩৮ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৩ মহিলা ৫।

কেন পুরুষরা বেশি মারা যাচ্ছে
এই প্রবণতা কেন – তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।
“সত্যি কথা বলতে গেলে বলতে হবে যে ঠিক কেন কোভিড-১৯ নারীর তুলনায় পুরুষদের ওপর বেশি চড়াও হচ্ছে, তা আমরা বলতে পারবো না। শুধু এটা বলতে পারি যে বেশি বয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে পুরুষ হওয়ার কারনেও ঝুঁকি বাড়ে,“ বলছেন সাবরা ক্লেইন, যুক্তরাষ্ট্রে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের, পাবলিক হেল্থ স্কুলের অধ্যাপক।
শুধু করোনাভাইরাসই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আরো যেসব মহামারি দেখা দিয়েছে (সার্স, মার্স), তখনও দেখা গেছে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে পুরুষরাই বেশি।
কেন করোনাভাইরাস এই লিঙ্গ-বৈষম্য করছে তার কিছু ব্যাখ্যা অবশ্য গবেষক এবং চিকিৎসকরা দিচ্ছেন, তবে সেগুলো এখনও সাধারণ ধারণাপ্রসূত, গবেষণালব্ধ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট অ্যাঙ্গেলা রাসমুসেন বলেন, সারা বিশ্বের জনগণনার পরিসংখ্যানও বলে যে এমনিতেই পুরুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তুলনামুলকভাবে বেশী।
যেসব দেশে করেনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেছে, সেগুলোর অনেকগুলাতেই (ইটালি, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া) পুরুষের চেয়ে নারীর আয়ু বেশি।
ছবির কপিরাইটGETTY
Image caption
পুরুষের লাইফস্টাইল তাদের বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে
অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মত হলো, পুরুষের লাইফস্টাইল (জীবণযাপনের পদ্ধতি) এর পেছনে কাজ করছে।
যেমন, নারীর তুলনায় পুরুষের জীবনযাপনে শৃঙ্খলা কম। তারা বেশি ধূমপান করে, বেশি মদ পান করে, আর এ কারণে হৃদরোগ, ক্যান্সোর বা ডায়াবেটিস বা ফুসফুসের প্রদাহে বেশি ভোগে পুরুষ। ফলে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঝুঁকিও তাদের বেশি, কারণ যাদেরই শরীরে আগে থেকেই অন্য কোনো কঠিণ রোগ রয়েছে, তারাই কোভিড-১৯ এ মারা যাচ্ছে বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে চীনে ১৫ বছরের বেশি বয়সের পুরুসের ৪৮ শতাংশই ধূমপান করে যেখানে নারীর ধূমপায়ীর সংখ্যা মাত্র দুই শতাংশ।

বিজ্ঞানীদের মতে, স্ত্রী যৌন হরমোন বা ইস্ট্রোজেন মহিলাদের যে কোনও রকম সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়াও বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, পুরুষের শরীরের কোষে একটি এক্স ক্রোমোজোম ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম থাকে। এ ক্ষেত্রে মহিলাদের শরীরের কোষে থাকা দু’টি এক্স ক্রোমোজোম পুরুষদের তুলনায় যে কোনও রকম সংক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয়।

তবে এই দুই তত্ত্বের বাইরেও দুনিয়ার বেশির ভাগ বিজ্ঞানী ও গবেষকরা পুরুষ ও মহিলাদের জীবনযাত্রার ধরনকেই তাঁদের প্রতিরোধ ক্ষমতার ভিন্নতার জন্য দায়ি করেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে