Thursday, December 2, 2021
বাড়িজাতীয়কবে পাব গ্লোবের টিকা?

কবে পাব গ্লোবের টিকা?

সাড়ে তিন মাসেও মেলেনি বাংলাদেশি কোম্পানি গ্লোব বায়োটেকের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নীতিগত অনুমোদন ।

গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে (বিএমআরসি) আবেদন জমা দিয়েছিল গ্লোব বায়োটেক। পরে বিএমআরসির চাহিদা অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত যোগ করে ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত আবেদন জমা দেওয়া হয়।

‘বঙ্গভ্যাক্স’ নামে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নীতিগত অনুমোদন পাবে কিনা, কবে নাগাদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে- এসব প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই ব্যাপারটা টোটালি আমাদের চেয়ারম্যান স্যার দেখছেন। এটার ব্যাপারে আমার তেমন কিছু বলার নাই।”

কিন্তু বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আই শ্যাল নট কমেন্ট অ্যানি মিডিয়া, অ্যানিহোয়্যার অ্যাবাউট দিস।”

গ্লোব বায়োটেক জানিয়েছে, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিকার ফেইজ-১ ও ফেইজ-২ এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রটোকল নীতিগত অনুমোদনের জন্য ১৭ জানুয়ারি বিএমআরসিতে দেওয়া হয়। বেশকিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ৯ ফেব্রুয়ারি গ্লোব বায়োটেককে একটি চিঠি দেয় বিএমআরসি। ওই চাহিদা অনুযায়ী সংশোধিত প্রোটোকল ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ১৭ ফেব্রুয়ারি আবার জমা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে গ্লোব বায়োটেকের ব্যবস্থাপক (কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি অপারেশনস) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাদের টিকার একটি ডোজের ‘অ্যানিমেল ট্রায়ালে’ কার্যকর অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও একই ধরনের ফল পাওয়া যাবে বলে তাদের বিশ্বাস।

তিনি বলেন, “নীতিগত অনুমোদন দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি এখনও বিএমআরসিতে আটকে আছে। এখান থেকে অনুমোদন পেলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আমরা প্রটোকল জমা দেব। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে আমরা মানুষের শরীরে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করতে পারব।

“প্রথমে অল্প কিছু মানুষের ওপর প্রয়োগ করে দেখা হবে টিকা নিরাপদ ও কার্যকর কি না। যদি কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হয়, তখন সেটা মানুষের ওপর ব্যাপক হারে প্রয়োগ শুরু হবে।”

ডা. মহিউদ্দিন জানান, এই টিকা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১ মাস এবং মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।
দেশে করোনাভাইরাসের মহামারী শুরুর পর গত বছর ২ জুলাই ওষুধ প্রস্ততকারী গ্লোব ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক টিকা তৈরির কাজ শুরুর কথা জানায়। ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে এই টিকা বাজারে আনার যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছিল তারা।

সেদিন সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খরগোশের ওপর এ টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ‘সফল’ হয়েছে। মানবদেহেও তা সফল হবে বলে আশাবাদী তারা।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Recent Comments

The Creative Gadget 10 creatives